রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
Logo চিরিরবন্দরে ফজলুর রহমান স্মৃতি পাঠাগার এর নির্বাহী কমিটির আগামী রোববার আলোচনা সভা। Logo গাজীপুরে ডাকাতির প্রস্ততিকালে ডাকাত দলের ৪ সদস্য আটক Logo গাইবান্ধায় মশার কয়েলের আগুনেঃ গোয়াল ঘরের গরুসহ ভষ্মিভূত। Logo কাহারোলে নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারে নেমেঃ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির মৃত্যু Logo গাইবান্ধায় এক কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। Logo চিরিরবন্দরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় Logo জয়পুরহাটে ডাকাতি সংঘটনের ৭ ঘন্টার মধ্যে মালামাল ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ জন আটক। Logo নীলফামারী থেকে হারানো শিশুকে উদ্ধার করেঃ মা-বাবা কাছে ফিরিয়ে দিলো রাশাস। Logo বালুবোঝাই ট্রলারের সঙ্গে যাত্রীবোঝাই সংঘর্ষে ট্রলার নিহত ২১;আহত ০৬। Logo চিরিরবন্দরে মা-ছেলেকে গ্রেপ্তারের ঘটনায়ঃ আসামি সিআইডির এএসপি সারোয়ার সহ জামিন নামঞ্জুর।

বেনাপোলে সুদ ব্যবসায়ী হাশেম ও বিল্লালের লাগামহীন সুদ বাণিজ্যি ৪৫ জন ব্যবসায়ী পলাতক

জেএসটিভিঃ / ৭৬ বার পঠিত
সময় : বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার

বেনাপোল পৌরসভার ভবারবেড় গ্রামে বসবাসকারী বৈদ্যুতিক জেনারেটর ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত বেনাপোলের বিশিষ্ট সুদ ব্যবসায়ী হাসেম আলীও বিল্লালের । তার লাগামহীন সুদ বাণিজ্যের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব বেনাপোলের অর্ধশতাধিক ছোট বড় দোকান ব্যবসায়ী। জানা যায় ৭বছর পূর্বে এই হাসেম আলী ও বিল্লাল বেনাপোল বাজারে কবুতর হাটের ইজারার টাকা উঠাতো। বর্তমানে সে সুদ বাণিজ্যে করে বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। বর্তমানে বিল্লালের বেনাপোল বাজার ৮ বাড়ি আছে আইন প্রয়োগকারী কাছে জোরালো দাবি তদন্ত করে এদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক। না হলে আরো কত ব্যবসায়ী জেলখানায় যেতে হবে এই দুজনের কারণে।

গত ১৪ই জুলাই বেনাপোলে এক অসহায় পরিবারের বসত ভিটা দখলের খবর বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এবং অনলাইনে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে বেরিয়ে আসছে তার লাগামহীন সুদ বাণিজ্যের সু-দীর্ঘ এক বিশাল ইতিহাস। লোমহর্ষক এই সুদের কারবারীর ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের লোকেরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এ যেন জীবন্ত এক সুদ ব্যবসায়ী ফেরাউনের সাথে তুলনা করা যায়।

শুক্রবার ১৬ই জুলাই বেনাপোল বাজারের মুদী ব্যবসায়ী জাফর ষ্টোরের মালিক আবু জাফর জানান, গত ২০ বছর আগে ব্যবসা করার জন্য স্থানীয় জেনারেটর ব্যবসায়ী হাসেম আলীর ও বিল্লাল নিকট থেকে ১৫ লক্ষ টাকা সুদে নেই। প্রতি মাসে সুদ হিসাবে লাখে ৯০ হাজার টাকা করে দিতে হতো। এভাবে ১০ থেকে ১২ বছর চলার পরে মাঠের দেড় বিঘা ফসলী জমি বিক্রি করে হাসেমের ১০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করি। এ পর্যন্ত সুদ ব্যবসায়ী হাসেম আলীকে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা দিয়েছি তবুও সে আমার কাছে এখনও ৫ লক্ষ টাকা পাবে। সে মতে এখন মাসিক ৩০ হাজার টাকা করে সুদ দিতে হচ্ছে। বর্তমান করোনাকালীন ও লকডাউনে ব্যবসা বাণিজ্যে বন্ধ থাকার পরও তাকে প্রতিদিন ১ হাজার টাকা সুদ দিতে হচ্ছে। আবু জাফর আরোও জানান, সুদের টাকা দিতে দিতে আমি এখন ভিক্ষুকের চেয়ে খারাপ হয়ে গেছি হিমসিম খাচ্ছেন বলে তিনি হাসেমকে অনেক বার কম নিতে বললে তিনি মানতে রাজি হননি। টাকা নেওয়ার সময় হাসেমকে কি কি দিতে হইছে বললে তিনি জানান, ৩০০ টাকার সাদা ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং পুবালী ব্যাংকের ৫ টি ব্লাংক চেক সই করে নেন। বর্তমানে আমি সুদের টাকা দিতে দিতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। আমি এই সুদ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রশাসনের মাধ্যেমে প্রতিকার পেতে চাই। এবং ছেলেমেয়ে নিয়ে আমি যেন বাঁচতে পারি।

বেনাপোল বোয়ালীয়ার এক ভুক্তভোগী সি এন্ড এফ কর্মচারি মামুন হোসেন জানান, পারিবারিক ভাবে বিপদে পড়ে সুদ ব্যবসায়ী হাসেমের ও বিল্লালের নিকট থেকে ৭০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। টাকার লাভ হিসাবে এ পর্যন্ত তাকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি। বর্তমানে করোনাকালীন অফিসে কাজ না থাকার কারনে সুদের টাকা দিতে পারছি না। কিন্তু সুদের টাকা না দিলে হাসেম এবং বিল্লাল আমাকে মামলা দেওয়ার হুমকী দিচ্ছেন। আমার কাছ থেকে একটি স্ট্যাম্পে সই নিয়েছেন ও একটি ব্যাংকের চেক নিয়েছেন সই করে। ইলেকট্রিক দোকান ফিরোজ মিয়া এক লক্ষ টাকা দাঁতন নিয়েছিলেন হাশেম ও বিল্লাল এর কাছ থেকে এক লক্ষ দশ হাজার টাকা দিয়েছি। এখনোও বলে তোমার কাছে ৬৬ হাজার টাকা পাব। এই ব্যাপারে ফিরোজ মিয়া বাজার কমিটির কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সীমান্ত বেডিং হাউজ এর মালিক আব্দুল সালাম বলেন সাত লক্ষ টাকা সুদে নিয়েছিলাম হাশেম ও বিল্লাল এর কাছ থেকে আমি ১৪ লক্ষ টাকা লাভ দিয়েছি। হাসেন মেয়ের জন্য আমি রীতিমত বর্তমানে দোকান খুলতে পারতেছি না
হাসেম এখনো বলে তোমার কাছ থেকে ১০লক্ষ টাকা এখনো পাব। যদি লাভের টাকা দিতে একটু দেরি হয় হাসেন ভয় দেখিয়ে বলেন তোমার খালিস্টান ও ব্ল্যানচেট আছে আমার কাছে। বর্তমানে আমি হাশেমের ভয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

সুদের টাকার লেনদেনের বিষয়ে হাসেম আলীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, জাফর ষ্টোরের মালিক আবু জাফরের সাথে ব্যাংকের লেনদেন আছে। জাফরের যদি টাকার প্রয়োজন হয় আমি তাহাকে স্টাম্পের মাধ্যমে টাকা দিয়ে থাকি। ১ লক্ষ টাকায় প্রতি মাসে আমি ৬০০০হাজার টাকা লাভ নিয়ে থাকি। হাসেম মিয়া বলেন এইটা আমি সমিতি হিসাবে একটি ব্যবসা করি।

এ বিষয়ে বেনাপোল বাজার কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ আজিজুর রহমান বলেন, সুদের কারনে বেনাপোল বাজারের অনেক ব্যবসায়ী এখন পথে বসেছে। আমরা বাজার কমিটি খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি মিটিং ডেকেছি। সুদ ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে যাতে ব্যবসায়ীরা প্রতিকার পাই সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD